সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একজন আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে: গাজী নজরুলের বিষয়ে আদালত

বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার কার্যক্রম দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় এবং তা বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায় ঘোষণার দিন সকালে মামলার ১৬ আসামির মধ্যে আটজনকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজিরকৃত আসামিদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেনসহ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের মামলায় রায় যেকোনো দিন

অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ মোট আটজন আসামি মামলায় পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তা শেষ হয়। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন আরাফাত হোসেন।

গত ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষ হলে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এটি পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তৃতীয় রায়। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আলোচিত ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম শহীদ হন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। অভিযোগপত্রের সঙ্গে দালিলিক প্রমাণ, নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্যাদি আদালতে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।