কানের ব্যথা নয়তো ক্যানসারের সতর্ক সংকেত, বুঝবেন যেভাবে
ক্যানসার শরীরের যে কোনো অংশেই আক্রমণ করতে পারে। তবে কানের ক্যানসার অত্যন্ত বিরল হওয়ায় অনেকেই একে সাধারণ কানের ব্যথা বা সংক্রমণ ভেবে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ কানের ব্যথাকেও হালকাভাবে নেওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
আরও পড়ুন: রাতে ঘুম ভেঙে বারবার প্রস্রাব? হতে পারে শরীরের গোপন সতর্ক সংকেত
কানের ব্যথা আমাদের অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ বা কানের ড্রপ ব্যবহার করলে তা সাময়িকভাবে সেরে যায়। তবে কয়েক দিন চিকিৎসার পর আবার যদি ব্যথা ফিরে আসে, বিশেষ করে ব্যথা যদি তীব্র ও অসহ্য হয়, তাহলে সেটিকে কানের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে কানের বাইরের অংশ বা এক্সটারনাল ইয়ারে ত্বকের ক্যানসার হিসেবে রোগের শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে কানের ভেতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আবার কখনো কর্ণনালীতে টিউমার তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ইয়ার ক্যানাল ক্যানসার। মধ্যকর্ণ বা মিডল ইয়ার আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: সারাদিন সতেজ ও ক্লান্তিহীন থাকতে খাদ্যাভ্যাসে আনুন এই ৫ পরিবর্তন
কানের ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ
অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ: কান থেকে ঘন ঘন রক্তপাত হওয়া বা লালচে পুঁজজাতীয় তরল বের হওয়া।
শ্রবণশক্তি হ্রাস: হঠাৎ কানে কম শোনা, অথবা সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা (টিনিটাস)।
তীব্র যন্ত্রণা: কানের ভেতরে বা আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে অসহ্য ব্যথা থাকা।
অন্যান্য উপসর্গ: রোগ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে কানের পাশের অংশ ফুলে যাওয়া, এমনকি ওই জায়গার চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রতিকার ও সচেতনতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো চিনতে না পারার কারণেই ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তাই কানের ময়লার (সেরুমেন) রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রাথমিক অবস্থায় কানের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।





