ভোটকেন্দ্রসহ যেকোন স্থানে প্রবেশ করতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ন, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:০২ পূর্বাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোন সময় যেকোন স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে এবং মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, বাহিনীগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার এবং বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় জোরালো করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীর আবাসিকে গ্যাস সংকট চরমে, বিপাকে হাজারো পরিবার

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় শিগগিরই চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, সহযোগীর ছদ্মবেশে ফ্যাসিবাদের এজেন্ট বা নাশকতাকারীরা যেন রাজনৈতিক অঙ্গনে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গানপাউডার, বোমা তৈরির উপকরণ ও অন্যান্য বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টভিত্তিক গ্রেপ্তারসহ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে।

ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা কোনোভাবেই পার না পায় এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার আরও জোরদার করা যায়।

সভায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে চালকদের সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয় এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহার, বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।