২০২৫ সালে ইউরোপমুখী অবৈধ পথে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৬ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইউরোপের সীমান্তে অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহে ২০২৫ সালে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তা ছিল বাংলাদেশ। সীমান্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হলেও এই প্রবণতা কমেনি বলে জানিয়েছে ফ্রন্টেক্স।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধ

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের পর অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা। আফ্রিকা ও এশিয়ার এই দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম প্রধান প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয়তা। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট—লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের দ্বীপগুলোতে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার চক্রগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের ইউরোপে নেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভালো কাজ ও আয়ের আশ্বাস দিয়ে তারা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় মানুষদের প্রলুব্ধ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং জীবনমান উন্নয়নের প্রত্যাশা। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।

ফ্রন্টেক্স আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবেই ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের শীর্ষ তালিকায় থাকলেও ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন এবং আফগানরা স্থল ও সমুদ্র—দুই ধরনের পথই ব্যবহার করছেন।

সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি বাড়লেও বাংলাদেশি অভিবাসনের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স।