শ্রীপুরে সূর্যমুখী চাষে গ্রামীণ পর্যায়ে সৃষ্টি করেছে একটি ভিন্নধর্মী বিনোদনকেন্দ্র

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী বাগান। ছবিঃ সংগৃহীত
কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের সূর্যমুখী বাগান। ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেন সফলভাবে সূর্যমুখী চাষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন একটি ভিন্নধর্মী বিনোদনকেন্দ্র।

তিনি প্রথমবার ছয় বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছিলেন। সফলতা আসায় এবার তিনি চাষের পরিধি বাড়িয়ে ১২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, অপরাধ করলেই ব্যবস্থা: কুলাউড়ায় এমপি শকু

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফুল ফোটা শুরু হতেই বাগানজুড়ে হলুদ রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। চলতি মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এ বাগান দেখতে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীর আগ্রহ আরও বেড়েছে।

দর্শনার্থীদের ঘিরে বাগান এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান ও শিশুদের খেলনার দোকান। ছবি তোলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে নান্দনিক কারুকাজের গেট ও বসার স্থান। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে দর্শনার্থীরা বাগানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তুলছেন ছবি, উপভোগ করছেন গ্রামীণ সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

শুরুতে বিনামূল্যেই দর্শনার্থীদের জন্য বাগান উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন কবির হোসেন। তবে এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরে জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়।

উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে আসা কারখানা শ্রমিক কাওসার ও তার স্ত্রী দীপিকা বলেন, ফেসবুকে বাগানের ছবি দেখে এখানে এসেছি। বাস্তবে এসে আরও বেশি ভালো লাগছে। পরিবেশ খুব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর।


স্থানীয় বাসিন্দা সামান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পাশের গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা কবির হোসেন এ বাগানটি করেছেন। সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত। ভবিষ্যতে এটি শুধু লাভজনক কৃষি উদ্যোগ নয়, কৃষিভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে অন্য তরুণ ও কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।’

কাওরাইদ থেকে আসা দর্শনার্থী ও ইউটিউবার শাওন বলেন, ‘গ্রামের মাঝে এমন একটি বাগান সত্যিই ভিন্নরকম আনন্দ দেয়। অনলাইনে দেখে এসেছি, বাস্তবে এসে আরও ভালো লেগেছে। পরিবেশ খুব পরিষ্কার ও সুন্দর।’

কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেন জানান, শখের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করেই সূর্যমুখী চাষ করেছি। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল ভোজ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং লাভও ভালো। প্রথমে ছয় বিঘা, পরে ১২ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করেছে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে কষ্ট হলেও এ সাফল্য আমাকে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করেছে।’

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে বারি সূর্যমুখীর একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষ বাড়লে ভোজ্যতেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ তেল পাওয়া যাবে। এ প্রদর্শনী দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আমরা আশাবাদী।’