দুর্গম চরে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৭০০ মানুষ

Sanchoy Biswas
মো. ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দুর্গম চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (১৪ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই চিকিৎসা ক্যাম্পে এলাকার প্রায় ৭০০ জন অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলন মেলা ও র‍্যালি

রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবির উদ্যোগে রোববার সকাল ৯টায় ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। চিকিৎসা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করেন রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার।

দুর্গম এই চরাঞ্চলে সহজে স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় বিজিবির এমন উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করে জানান, চরাঞ্চলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিজিবির এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ আবার আলোচনায়: মারামারি ও পর্নোগ্রাফি মামলায় জেলে

মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রতি মাসে অন্তত একবার এ ধরনের বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বলেন, "চর আষাড়িয়াদহ উপজেলা ও জেলা সদর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা। এখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট ও ওষুধের অভাবে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য চিকিৎসার জন্যও চরবাসীকে নদী পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছুটতে হয়।"

চরবাসীর নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এলাকায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনেরও জোর দাবি জানান তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকার জনসাধারণের কল্যাণে বিজিবির এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবাই নিশ্চিত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।