সিলেটের তরুণের অভাবনীয় আবিষ্কারে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী
পঁচা সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন, কলাগাছ থেকে ঢেউটিন আবিষ্কার!
সিলেটের তরুণ শিক্ষার্থী, কৃষক সন্তান ক্ষুদে বিজ্ঞানী; সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবিত কলা গাছের তন্তুকে বিশেষায়িত করে প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির ফর্মুলা আবিষ্কার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে, সাজ্জাদুল ইসলাম পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনযোগ্য পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলন মেলা ও র্যালি
দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের জন্য সাজ্জাদুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের এই উদ্ভাবনী কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী সাজ্জাদুলকে তার এই গবেষণা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখার জন্য উৎসাহিত করেন।
তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিরদ্রোন ইউনিয়নের মহাজিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নজরুল ইসলাম। পেশায় তিনি কৃষক।
এর আগে সাজ্জাদুল "বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২৪" এ মৌলভীবাজার জেলা পর্যায়ে বছরের সেরা মেধাবী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, কলাগাছের তন্তু থেকে তৈরি এই কঠিন যৌগ তৈরি করতে তার সর্বোচ্চ ৬৫ ভাগ তন্তু দিলে এর মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ হবে।
তার তৈরি টাইলসের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম। যার মধ্যে ২০০ গ্রাম কলাগাছের তন্তু ও হাইড্রোক্সাইড ৬০ গ্রাম ও রেজিন ৪০ গ্রাম। রেজিন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে যেন এটি না পচে এবং হাইড্রোক্সাইড রেজিনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী অবস্থান প্রদান করে।
একই সাথে সে পচা বা অব্যবহৃত সবজীর শ্বেতসার থেকে তৈরি করেছে পচনযোগ্য পলিথিন। তার দাবি এটি পরিবেশবান্ধব এবং অনেকটা সাশ্রয়ী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাজ্জাদুল বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে তার গবেষণা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
সাজ্জাদুলের মাধ্যমিক বিদ্যালয় শ্রীমঙ্গল মহাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান হুগলিয়া হাজী মনছব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান জানান, ছোটবেলা থেকেই সাজ্জাদুলের বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারে ছিল কৌতূহল। এ থেকেই বিভিন্ন কিছু আবিষ্কারে তার মনোযোগ আসে। সাজ্জাদুল ইতিমধ্যে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে তৈরি করেছে টাইলস আর অব্যবহৃত সবজি থেকে তৈরি করেছে পরিবেশবান্ধব পলিথিন।
এদিকে, তরুণ বিজ্ঞানী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সরকারি সহায়তার আশ্বাস পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, পচা সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু দিয়ে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরির এই সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
বিশ্ববাজারে বহুল ব্যবহৃত ক্ষতিকর প্লাস্টিক, কার্বন এবং সিলিকন পণ্যের সরাসরি বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।
আমরা আশা করি, তরুণ বিজ্ঞানী সাজ্জাদুলের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে এবং এগুলো বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা।





