২০২৫ সালে বাংলাদেশীদের জন্য সাড়ে ৭ লাখ কাজেরসহ ১৪ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৯ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করেছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে রিয়াদ, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজারই ওয়ার্ক ভিসা—এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরবে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলছে। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে “বিস্তৃত ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে” উন্নীত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের “বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে তার ঐতিহাসিক সৌদি সফর মুসলিম বিশ্বে ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—উভয়পক্ষই সে অবদান স্বীকার করে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ -সৌদি আরব সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: তারেক রহমান

মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম উম্মাহজুড়ে শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে কাজের সুযোগ দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ। পাশাপাশি দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও সৌদি সমর্থনের কথা তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদির অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনে রিয়াদের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন তিনি।

এদিকে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উভয়পক্ষই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা অনুমোদনের এই পরিসংখ্যান শুধু শ্রমবাজারে নয়—রেমিট্যান্স, বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।