সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ
লালমনিরহাটে এলপিজি গ্যাসে চরম নৈরাজ্য, বিপাকে সাধারণ মানুষ
উত্তরের জেলা লালমনিরহাট-এ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই অতিরিক্ত মূল্য আরও বেশি নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৭২৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও, জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অনেক দোকানে এই গ্যাস ১,৯৫০ থেকে ২,০৫০ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় স্পেকট্রাম ট্রাজেডির ২১ বছর: বিচারহীনতায় ক্ষোভ
ভুক্তভোগী কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দাম দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, “দোকানদাররা এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। বেশি দাম না দিলে গ্যাসই পাওয়া যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ বাজারগুলোতে নজরদারির অভাব থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোলার চরফ্যাশনে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এলপিজি গ্যাসের বাজার আমরা নিয়মিত নজরদারিতে রেখেছি। কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি না করে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়—দৃশ্যমান অভিযান ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এলপিজি গ্যাসের এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





