ভোলার চরফ্যাশনে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

Sadek Ali
খুরশীদ আলম, ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৭ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভোলার চরফ্যাশনে ৩৩টি ইট ভাটার মধ্যে ১৭টি লাইসেন্স বিহীন। প্রতিবছর লাইসেন্স বিহীন এসব অবৈধ ভাটায় বনের কাঠ পুড়ে ইট পোড়ানো হলেও অজ্ঞাত কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর নভেম্বর মাসে ইট পোড়ানো শুরু হয়। শেষ হয় এপ্রিল মাসে। প্রতিবছরই মৌসুম শেষ হওয়ার কিছু দিন আগে অবৈধ এসব ভাটায় অভিযান দিয়ে নাম মাত্র জরিমানা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলার কর্মকর্তারা। নাম মাত্র জরিমানা দিয়ে ভাটা চালানোর সুযোগ থাকায় মালিকরা লাইসেন্স গ্রহনে আগ্রহী হচ্ছেন না। একারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে একের পর এক অবৈধ ভাটা তৈরি হচ্ছে। জানাগেছে, উপজেলার বৈধ-অবৈধ ৩৩টি ইটভাটার অধিকাংশই গড়ে ওঠেছে ঘনবসতিপূর্ন ও নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্নে কিংবা ফসলী জমিতে। এভাবে ইটভাটা তৈরির কোনো নিয়ম নাই।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় স্পেকট্রাম ট্রাজেডির ২১ বছর: বিচারহীনতায় ক্ষোভ

অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে বনের কাঠ জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে এই শিরোনামে এক মাস আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের একমাস পর অবশেষে  বৃহস্পতিবার  (৯এপ্রিল) ১৭অবৈধ ইটভাটার মধ্যে দুটিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। অভিযানকালে উপজেলার দুলারহাট এলাকার নাভানা ব্রিকস এবং আবদুল্লাহপুর এলাকার এনাম বিক্সস’এ আগুন নিভিয়ে ড্রাম চিমনী গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং নাভানা ব্রিক্স মালিকের এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আজম।

এদিকে অভিযানের আগে বিষয়টি জানতে পেরে সকালে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলার সহকারি পরিচালক মো.তোতা মিয়াকে ফোন করলেও  তিনি অভিযানে আসার বিষয়টি এড়িয়ে যান।    অভিযানে স্থানীয় কোনো সংবাদকর্মীকে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট স্যার নিষেধ করায় তিনি অভিযানের বিষয়টি জানাননি। আগুন নিভিয়ে ইট ঠান্ডা হলে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা ভাটা দুটিতে অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগ প্রসঙ্গে  এইকর্মকর্তা বলেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়।

আরও পড়ুন: কমলনগরে সড়কের বেহাল দশা, বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি

ভোলার সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আজম  বলেন,  অভিযানে সাংবাদিক রাখার ব্যাপারে আমি ওনাকে নিষেধ করেছি এটা সঠিক নয়। অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিক ফোন করেছে এবিষয়টি তিনি আমাকে পরে জানিয়েছেন,তখন আমাদের অভিযান শেষ।