লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে (ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) দীপালি বেগম (৩৪) নামে ফরিদপুরের এক নারী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ওই দেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় ওই নারী লেবাননের বৈরুত এলাকায় যে ভবনে বসবাস করতেন সেই ভবনে হামলা হয়। হামলায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
দিপালি বেগম ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মুবা’র মেয়ে। তিনি অবিবাহিত এবং দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। লেবাননে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
দিপালির ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, গত দুই বছর আগে জীবীকার তাগিদে তার বোন লেবাননে যান। গত ৮ এপ্রিল সকালে আমার বোনের সাথে কথা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক মাস আগে লেবাননের চুড় এলাকা থেকে বৈরুত এলাকায় যায় দিপালি। ওই সময় সে জানিয়েছিল চুড় এলাকায় যুদ্ধের দামামা বেশি তাই সেখান থেকে তার মালিকের পরিবারসহ বৈরুত এলাকায় স্থানান্তরিত হয়।সেখানেই দিপালিসহ তার মালিক ও তার পরিবারের সদস্যসহ সাত জন নিহত হন।তারা যে ভবনে অবস্থান করছিল সেই ভবনেই বোমা হামলা হয়। তার মরদেহ ওই দেশের পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, কাপাসিয়ায় আনন্দের জোয়ার
দিপালির ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, তার বোন গত ৮ এপ্রিল ,মারা গেলেও তারা আজ শুক্রবার এ খবরটি জানতে পারেন। চুড় এলাকার যে দোকান থেকে দিপালী দেশে টাকা পাঠাতেন সেই দোকানের মালিক ফোনে তাদের এ দুঃসংবাদ দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, দিপালির বাড়ি মুন্সিরচর গ্রামের নওয়াব আলীর দোকানের সামনে। তিনি বলেন, পরিবারটি খুব গরিব। পরিবারের অভাব ঘোচাতেই মেয়েটি বিদেশে গিয়েছিল। কি নির্মম ভাবে মৃত্যু হল তার। আমাদের চাওয়া একটাই, “যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ যেন দেশে আনা হয়”।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। আমরা আমাদের কুটনৈতিক চ্যানেলে মরদেহ দেশের আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।





