বেড়েছে ট্রাক ভাড়া
জ্বালানি সংকটে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা
জ্বালানি সংকটের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং মালবাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরাসরি স্থলবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পণ্য লোড-আনলোডের জন্য ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে টার্মিনালে অপেক্ষা করছে। জ্বালানি তেল সংকটের কারণে অসংখ্য ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ হাওরে পিকআপ–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জন নিহত
ট্রাক মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলের অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি ট্রাকে প্রয়োজনীয় ৯০ লিটার ডিজেলের বিপরীতে অনেক সময় মাত্র ৫০ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। তেল নিতে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সোনামসজিদ থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের ভাড়া আগে যেখানে ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “বর্তমানে প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসার খরচও বাড়ছে। এতে ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিজিবি ভারতীয় ট্রাকগুলোর জ্বালানি তেলের পরিমাণ যাচাই করছে, যার ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





