চাঁদাবাজি-মাদক-সাইবার অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’: ডিএমপি কমিশনার
রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: আনসার-ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত রাজধানী গড়ে তুলতে ডিএমপি কাজ করছে। এই কার্যক্রমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিরসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করার সুবিধা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ ও হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদারের কথাও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজগুলোও তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।





