নির্বাচন ভবন ঘিরে অবৈধ কম্পিউটার-ফটোকপি দোকান গুঁড়িয়ে দিল ইসি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ঘিরে জালিয়াতি, তথ্য বাণিজ্য ও দালালচক্রের অপতৎপরতা বন্ধে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় কঠোর অবস্থানে গেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ভবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোকপি ও তথাকথিত ‘এনআইডি সেবা’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত একাধিক দোকান সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ভবনকেন্দ্রিক অবৈধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের এনআইডি সংশোধন, তথ্য হালনাগাদ, আবেদন প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিল। এসব কার্যক্রমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান সিইসির
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন ভবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কতটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।
এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মাসুদ রানা জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ফুটপাত দখল করে বসানো আনুমানিক ৬ থেকে ৭টি দোকান অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পুনরায় সেখানে বসতে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের দুই আসনের ভোট-জটিলতা নিষ্পত্তিতে শুনানি ৯ জুন
নির্বাচন কমিশনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও উপসচিব সহিদ আব্দুস ছালাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন ভবনের আশপাশে এনআইডি সেবার নামে যেন কোনো অননুমোদিত কার্যক্রম পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের পাশে অসংখ্য কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পাসপোর্ট, এনআইডি সংশোধন, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা শুধুমাত্র অনুমোদিত প্রক্রিয়া ও সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে এনআইডি সেবা দেওয়ার নামে প্রতারণা, তথ্য জালিয়াতি বা দালালি কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





