ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারে আম পাড়া উদ্বোধন করলেন এমপি চাঁদ
রাজশাহীর ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ মে আম পাড়ার উদ্বোধন করলেন এমপি আবু সাইদ চাঁদ। ভেজাল ও কেমিক্যালমুক্ত আম বাজারজাত করণে রোধে ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। ১৫ মে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজারের নামতে শুরু করবে বিভিন্ন জাতের আম।
শুক্রবার ১১টার সময় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা কৃষি দপ্তরের আয়োজনে আম পাড়ার উদ্বোধনের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এমপি আবু সাইদ চাঁদ। কৃষি অফিসার আল মামুন হাসান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রাহাতুল করিম মিজান।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন : লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এবার ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ৩২ টাকা কেজি ধরে যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৭৮০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অনুষ্ঠানে কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে জানানো হয়, সকল প্রকার গুটি আম বাজারজাত ১৫ই মে থেকে শুরু হলো, গোপালভোগ ২২ মে, রাণী পছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে, ব্যানানা ম্যাংগো বা ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ১৫ই জুন, ফজলি ১৫ই জুন, বারি আম-৪ পাওয়া যাবে ৫ জুলাই, আশিনা ১০ জুলাই, গৌরমতি ১৫ জুলাই বাজারজাত করা যাবে। এছাড়া কাটিমন ও বাড়িয়াম- ১১ সারাবছর সুবিধামতো সময়ে বিক্রি করা যাবে।
স্বাদে ও গুনে দেশ সেরা রাজশাহীর আম। বিগত ৫ বছরে আমের আবাদ কমেনি বরং নতুন জাতের আম চাষ বৃদ্ধি হয়েছে। বিছিন্ন ভাবে ৪১৫ হেক্টর আম বাগান উজার হলেও আমের জাত বিভাজনে চাষবাদ বৃদ্ধি হয়েছে। এই মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২লক্ষ ১১হাজার ৯০ মেট্রিক টন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে আবারও ৮ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে গত ২১-২২ সালে আম উৎপাদন হয়েছিল ৯৬৯৬৫৯ মে,টন, ২২-২৩ সালে ১২০৭২৬৩ মে,টন, ২৩-২৪ সালে ১০২০২০৯৫ মে,টন এবং ২৪-২৫ সালে উৎপাদন হয়েছিল ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৯৫ মে,টন আম। তবে সর্বপরি কৃষি দপ্তরের পর্যবেক্ষন অনুযায়ী ২৫-২৬ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লক্ষ ১১ হাজার ৯০ মে.টন।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আম চাষ করছেন। বর্তমান প্রচলিত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, আম্রপালি, বারি-৩, বারি-৪ আম, ব্যানানা, হাড়িভাঙ্গা, তোতাপরি, গৌড়মতি, দুধশর, এবং কাটিমন আম। এই অঞ্চলে প্রায় জাতের আমের ফলন হলেও স্বাদে ও গুনে বেশি জনপ্রিয় রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আম। এই দুই উপজেলার খিরসা এবং গোপালভোগ আম খুবই রসালো এবং মিষ্ট। তবে এই দুই জাতের আমের ফলন কম এবং বাজার মূল্যও অনেক বেশি হয়।
কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে এবারের মৌসুমে রাজশাহীতে ১৯১৮৮ হেক্টরে ২লক্ষ ৫৬হাজার মে.টন আম উৎপদনের আশা করছেন। নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩শত ১০ হেক্টর জমিতে ৫২,১৬১১২ মে,টন আম উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। নাটোরে ৫৬৯৩ হেক্টরে ৭৫০৬০ মে,টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই মৌসুমে আমের চাষ হয়েছে ৩৭ হাজার ৪শত ৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লক্ষ ৫৮হাজার ৯শত ১২ মে.টন।
রাজশাহী জেলা কৃষি উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন প্রকারের ফল এদেশে চাষাবাদ হয়। তবে মাটির গুনে ফলন হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এই জেলার মাটি আমের জন্য বেশ উপযোগী কিন্ত অন্য ফলের জন্য অন্য কোন জেলা বা উপজেলা। সর্বপরি আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের কাঙ্খিত ফলন পাবে বলে তিনি আশাবাদি। আম চাষিরা কৃষি দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গাছের পরিচর্যা করলে ভালো ফলনের সম্ভবনা থাকে।
রাজশাহী-৬ চারঘাট-বাঘা এমপি আবু সাইদ চাঁদ আম পাড়া উদ্বোধন কালে বলেন, রাজশাহী আমের রাজ্য হলেও চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের ফলন এবং সুমিষ্টি আম পাওয়া যায়। এই আম মজুদের লক্ষে দেশ প্রধান মন্ত্রীর নিকট একটি হিমাগার নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে। এমপি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে আম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যৎ আমি চাষিরা ভালো কিছু পাবেন। পরিশেষে আম চাষি ও ব্যবসায়িদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি নিজে একজন কৃষক। অতি লাভের আশায় আপনারা আমের সঙ্গে বিষ সমতুল্ল রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রন করবেন না। আমের বাজার ভালো করার লক্ষে এমপি কাজ করছেন বলে জানান।





