হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে, চুক্তি হলেও প্রভাব কমবে না
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি বা সমঝোতা চুক্তি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে ইরানের প্রভাবেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই জলপথে ইরানের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কাগজে-কলমে এই রুট উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করতে পারে, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো বাস্তবে সেই নিশ্চয়তায় পুরোপুরি বিশ্বাস করবে না, কারণ এই অঞ্চলে ইরানের কার্যত প্রভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার দাবি
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতি এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম
চলমান উত্তেজনার কারণে কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে, আর ইরাকও বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে।
আমোস হোচস্টাইন আরও বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কাগজে-কলমে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার দেখালেও বাস্তবে অনেক দেশকে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। কিছু দরিদ্র দেশে এই দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮৬ ডলারে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই জ্বালানি সংকট প্রথমে দরিদ্র দেশগুলোতে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এশিয়ার ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ হয়ে পশ্চিমা অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি জানান।





