বিশ্বকাপ জিতলেই মিলবে কোটি টাকা! ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের রেকর্ড
এক মাসের রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পুরস্কার তহবিল।
এর আগে ফিফা মোট ৭২৭ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছিল, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে অংশগ্রহণ ফি, প্রস্তুতি ভাতা এবং দলীয় অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মোট তহবিল বেড়ে ৮৭১ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।
আরও পড়ুন: বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন
ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, দল যত ভালো ফল করবে, পুরস্কারের পরিমাণও তত বাড়বে।
- চ্যাম্পিয়ন: ৫১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬২২ কোটি টাকা)
- রানার্স-আপ: ৩৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা)
- তৃতীয় স্থান: ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা)
- চতুর্থ স্থান: ২৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা)
- ৫ম–৮ম স্থান: ২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা)
- ৯ম–১৬তম স্থান: ১৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা)
- ১৭তম–৩২তম স্থান: ১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা)
- ৩৩তম–৪৮তম স্থান: ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২২ কোটি টাকা)
এই পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের জন্য মোট ৭০৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণ করলেই মিলবে মোটা অঙ্ক
আরও পড়ুন: ফ্রান্সকে থামাতে পারল না মরক্কো
পারফরম্যান্সের বাইরে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের জন্যও আলাদা আর্থিক সুবিধা রেখেছে ফিফা।
প্রতিটি দল পাবে—
প্রস্তুতি ভাতা: ২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০.৫ কোটি টাকা)
অংশগ্রহণ ফি ও অতিরিক্ত দলীয় অনুদানসহ: কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার
সব মিলিয়ে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ শুধুমাত্র বিশ্বকাপে খেলার জন্যই ন্যূনতম ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা) পাবে।
ফিফা জানিয়েছে, প্রস্তুতি ভাতা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভ্রমণ এবং টুর্নামেন্ট-পূর্ব প্রস্তুতির ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে অতিরিক্ত দলীয় অনুদান প্রতিনিধিদলের লজিস্টিকস, প্রশাসনিক ব্যয় এবং বরাদ্দ টিকিটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল দেশের মধ্যে অংশগ্রহণ ব্যয়ের বৈষম্য কমানো এবং সব দলের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।





