দুই গোল পিছিয়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Sanchoy Biswas
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:০৯ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোল পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৫ মিনিটে তিনটি গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম। হঠাৎ করেই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন: হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায়, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

গোল হজমের পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। স্পট কিক নিতে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে তার নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

এ নিয়ে বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতে ব্যর্থ হলেন মেসি। চলতি আসরে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৭ গোলদাতা

প্রথমার্ধের বাকি সময়েও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও রদ্রিগো ডি পলের শটও প্রতিহত করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোস্তফা শোবেইর। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও জমাট রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে মিশর। পাল্টা আক্রমণে জিকো একবার বল জালে পাঠালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

এরপর ৬৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে আরও বড় চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে সেখান থেকেই শুরু হয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন।

৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। গোলটি ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। ৮৪তম মিনিটে তার জোরালো শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পাশাপাশি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন তিনি।

সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত পাসে বক্সের ভেতর হেড করে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয় লিওনেল মেসির দল।