ভিএআর বিতর্কে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ

পেনাল্টি না পাওয়া ও রেফারির সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

Any Akter
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৫ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)–এর একাধিক সিদ্ধান্তকে ঘিরেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিতর্কিত এই ম্যাচে ৩–২ গোলে হেরে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় ওঠা মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ৬২তম মিনিটে। তখন ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি। সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জানানো হয়, আক্রমণ শুরুর আগে মিশরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন। সেই ফাউলের ধারাবাহিকতায় গোলটি হওয়ায় সেটি বৈধ নয় বলে রায় দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: দুই গোল পিছিয়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ম্যাচের শেষদিকে মিশর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে দুটি ফাউলের অভিযোগ তোলে। একটি ঘটনায় হামদি ফাতির জার্সি টানার অভিযোগ ওঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধে। আরেক ঘটনায় মোহামেদ সালাহকে হুলিয়ান আলভারেজ ফাউল করেন বলে দাবি করে মিশর। তবে কোনো ঘটনাতেই রেফারি ভিএআর রিভিউয়ের প্রয়োজন মনে করেননি। পরবর্তীতে পাল্টা আক্রমণ থেকে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)–এর ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, অফসাইড বা হ্যান্ডবলের ঘটনা থাকলে তা পর্যালোচনা করা যায়। তবে ঠিক কোন পর্যায় পর্যন্ত আক্রমণের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নেওয়া হবে—সেই বিষয়টিই এই ম্যাচে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায়, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক–কে দেওয়া বিশ্লেষণে প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি গ্রাহাম স্কট বলেন, মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। তার মতে, আত্তিয়া ও মার্টিনেজের সংঘর্ষ ছিল স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই এবং ঘটনাটি গোল হওয়ার অনেক আগে ও অনেক দূরে ঘটেছিল। ফলে এটিকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে ধরে গোল বাতিল করার মতো পরিস্থিতি ছিল না।

অন্যদিকে, ফক্স স্পোর্টস–এর রেফারিং বিশেষজ্ঞ ড. জো মাচনিক ভিন্ন মত দেন। তার ভাষ্য, আক্রমণের শুরুতে যদি ফাউল হয়ে থাকে এবং সেই আক্রমণ থেকেই গোল আসে, তাহলে আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী গোল বাতিল করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক রব গ্রিন সম্প্রচারের সময় মন্তব্য করেন, ঘটনাটি ভিএআরের হস্তক্ষেপের মতো ছিল না। তার মতে, মাঠের এক প্রান্তে সামান্য সংস্পর্শের ঘটনা ধরে অন্য প্রান্তে হওয়া গোল বাতিল করা প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার।

সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস অবশ্য মনে করেন, মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ তার মতে, একই আক্রমণপর্বে হওয়া ফাউলের ধারাবাহিকতায় গোলটি এসেছিল।

বিবিসি স্পোর্টের সাংবাদিক ডেল জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এই টুর্নামেন্টে একই ধরনের সংস্পর্শের ঘটনায় আগে ফাউল দেওয়া হয়নি। ফলে মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তার পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার বলেন, "হয় দুটি ঘটনাই ফাউল, নয়তো কোনোটিই নয়।"

এদিকে ইএসপিএন–এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ম্যাচে ভিএআরের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তাদের মতে, এই বিতর্ক বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত রেফারিং ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।

ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচটি ভিএআর ব্যবহারের সীমা, ধারাবাহিকতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।