অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন গড়তে প্রস্তুতি জোরদার, জাতীয় ভোটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে ইসি

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৮ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভবিষ্যতের নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও জনআস্থাভিত্তিক করতে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট পরিচালনার প্রস্তুতি, আইন ও বিধিমালার সংস্কার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছে ইসি। 

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন সংস্কার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি, আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন বার্তা

তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচন পরিচালনার অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা দুই ক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। সেই বিবেচনায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সমন্বয়, নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজও এগিয়ে চলছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে যেসব সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতের নির্বাচন আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হয়।

সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ভোটার আস্থা এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে নানা সুপারিশ তুলে ধরে। এসব সুপারিশ নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণের দিনের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতি, আইনি কাঠামো, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ভোটারদের আস্থার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল। তাই নির্বাচন কমিশনের চলমান সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।