কেশবপুরে নদীর পাড় ধসে নদীগর্ভে বিলীন ৪ বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও

Sadek Ali
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:২৫ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদ খননের পর টানা ভারী বর্ষণ ও নদীর পাড় ধসের কারণে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের চারটি বসতঘর হরিহর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত ১০ জুলাই সকালে মুহূর্তের মধ্যে ঘরগুলো নদীতে ধসে পড়লে অন্তত দুটি পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসানা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন: মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিহর নদ খননের পর থেকেই নদীর দুই পাশের পাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাড় ধসের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা দ্রুত নদীর পাড় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন বলেন, “বাড়িটিই ছিল আমাদের একমাত্র আশ্রয়। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এখন আমরা অসহায় অবস্থায় রয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা পেয়েছি, তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।”ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাহ হোসেন বলেন, “নদীর পাড় ধসে আমার বসতঘর মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চাই।”

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ফানাই সেতু দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

এদিকে টানা ভারী বর্ষণের কারণে কেশবপুর পৌর শহরে আবারও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসানা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।