পাকিস্তানে চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ১৫
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (০৯ মে) রাতে ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে এই হামলা হয়। খবর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে ওই পুলিশ পোস্টে সজোরে ধাক্কা দেয় আত্মঘাতী হামলাকারী। বিস্ফোরণের পর পোস্টের দিকে বিভিন্ন দিক থেকে গুলিও ছোড়ে সশস্ত্র হামলাকারীরা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের: নতুন আগ্রাসনে কঠোর জবাবের প্রস্তুতি
বান্নুর রিজিওনাল পুলিশ কর্মকর্তা (আরপিও) সাজ্জাদ খান বলেন, হামলার সময় ওই পোস্টে ১৮ পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি তিনজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হামলায় জঙ্গিরা ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি কোয়াডকপ্টারও (ড্রোন) ব্যবহার করেছে। শক্তিশালী বিস্ফোরণে পোস্টটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে থাকা একটি সাঁজোয়া যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি ভবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান-সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা
এদিকে, হামলার পরপরই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।
বান্নু পুলিশের কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাজ্জাদ খান জানান, এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত হানে। এরপর একাধিক সশস্ত্র হামলাকারী চেকপোস্টে ঢুকে পড়ে।
মুহাম্মদ সাজ্জাদ খান বলেন, ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সাম্প্রতিক বিদ্রোহী গোষ্ঠির তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার সম্পর্কেও চাপ তৈরি হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা চেকপোস্টে ঢুকে গুলি চালায়। হামলায় ছোট ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।
বান্নুর এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হামলাকারীরা ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পিছু হটার সময় তারা পুলিশ সদস্যদের অস্ত্রও সঙ্গে নিয়ে গেছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বান্নুতে এ ধরণের হামলার ঘটনা বেড়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও এ প্রবণতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
কাবুলের তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড সশস্ত্র হামলাকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বান্নু জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও জিরগা সদস্যদের লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।





