ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ স্বর্ণখনিতে ধস, নিহত ৯

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ন, ১৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৬ অপরাহ্ন, ১৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি অবৈধ স্বর্ণখনিতে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, পশ্চিম সুমাত্রার সিজুঞ্জুং জেলায় অবস্থিত খনিটির পাশে থাকা একটি পাহাড় বৃহস্পতিবার ধসে পড়ে। সে সময় শ্রমিকরা পাহাড়ের প্রায় তিন মিটার নিচে কাজ করছিলেন। আকস্মিক এ ধসে তারা মাটিচাপা পড়েন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ৮ সেনাসদস্য নিহত

পশ্চিম সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র সুস্মেলাবতি রোসা জানান, ঘটনাস্থলটি একটি অবৈধ স্বর্ণখনি। পাহাড় ধসের সময় সেখানে কর্মরত নয়জন শ্রমিক নিহত হন। তবে তিনজন শ্রমিক জীবিত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে নিখোঁজ সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে খনিটি বন্ধ ঘোষণা করে পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার আশ্বাস চীনের, দাবি ট্রাম্পের

খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়ায় অনুমোদনহীন খনিতে কাজ করা একটি সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে পরিত্যক্ত খনিগুলোতে স্থানীয়রা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই সোনার আকরিক সংগ্রহে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৪ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপে এবং গত বছর পশ্চিম জাভার একটি চুনাপাথরের খনিতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়ালহি। সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১২ সাল থেকে শুধু পশ্চিম সুমাত্রাতেই অবৈধ খনিতে দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে ওয়ালহি বলেছে, সিজুঞ্জুংয়ের এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে পরিবেশবিধ্বংসী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ খনন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।