দাগনভূঞায় মাদকের ভয়াল থাবায় পরিবার ধ্বংস : ইউএনও
অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব ও পারিবারিক নজরদারি দুর্বল হওয়ার কারণেই মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে পরিবারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদকাসক্তরা শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও বোঝা। যে পরিবারে একজন মাদকাসক্ত সদস্য থাকে, সেই পরিবারই এর ভয়াবহ যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে।”
রোববার (১১ মে) দুপুরে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর কলেজে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পাকুন্দিয়ায় দুই যুগ পর ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
ইউএনও বলেন, সম্প্রতি দাগনভূঞায় মাদকাসক্ত এক ছেলের হাতে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বাবা-বোন আহত হওয়ার ঘটনা পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদক প্রতিরোধে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় অসহায় মা-বাবা নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। একজন মা-বাবা কতটা অসহায় হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তা সহজেই অনুমেয়। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না, সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে।”
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩
সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ফেনীতে মাদক কারবারিরা প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক এনে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং মাদকাসক্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ নীতি বাস্তবায়নে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
রাজাপুর কলেজ-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর নুর মোহাম্মদ।
সেমিনারে বক্তারা মাদকের ভয়াবহ কুফল তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এতে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।





