সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ
আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম। সচিবালয়ে কর্মরত ১৫ জন বিচারিক কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৫ জন কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সাময়িকভাবে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সম্পর্ক এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করলেও তা পরবর্তীতে আইন হিসেবে কার্যকর করা হয়নি।
আরও পড়ুন: মোমেন কমিশনে দুদকের তিন মহাপরিচালক ঘিরে বিতর্ক
বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়েও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ সীমিত ছিল।
১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে বিচারপতি মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন, যা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।





