একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, কাপাসিয়ায় আনন্দের জোয়ার

Sadek Ali
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া
প্রকাশিত: ৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪২ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের দিঘাব গ্রামের মাসুমা সুলতানা (৩০) নামে এক গৃহবধূ একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দুই দিন আগে ঢাকার পিজি হাসপাতালে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ রুহুল আমিন এর সহযোগিতায় সিজারিয়ানের মাধ্যমে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন মাসুমা সুলতানা। সন্তানদের জনক কাজল মিয়া সৌদি প্রবাসী। এর আগে তাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

 মা ও নবজাতক ৫ সন্তানকে ঢাকা থেকে এনে ডাঃ রুহুল আমীন এর প্রতিষ্ঠিত কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ মগারটেক এলাকায় মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে শুক্রবার রাতে পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় একসঙ্গে ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো ছাত্র সংসদ ‘আল-ফায়জী’

খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দেশবরেণ্য আলোচিত চিকিৎসক ডাঃ রুহুল আমিন এর সার্বিক তত্বাবধানে হাসপাতালে মা ও সন্তানেরা সুস্থ্য আছেন। বাড়িতে নেয়ার আগে মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালে ৫ নবজাতককে দেখার জন্য স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভীড় জমে। ডাঃ রুহুল আমিন ইতোপূর্বে জোড়া বাচ্চা অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন।

পল্লী মডিউল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুজ্জামান সেলিম জানান, উপজেলার দিঘাব গ্রামের কাজল মিয়ার গর্ভবতী স্ত্রী মাসুমা সুলতানা অসুস্থবোধ করলে গত একসপ্তাহ আগে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর সিজারিয়ানের মাধ্যমে একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম হয়। অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের দক্ষতা ও সতর্কতার ফলে সফল ভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মোহনগঞ্জে পুকুরে ডুবে একই বাড়ির দুই শিশুর মৃত্যু

হাসপাতালের পরিচালক আশরাফুল আলম সোহেল জানান, হাসপাতালে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫ নবজাতক সুস্থ রয়েছে। একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম দেয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। নবজাতকদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

৫ নবজাতকের পিতা সৌদি আরব প্রবাসী কাজল মিয়া একসাথে তাদের পেয়ে খুবই খুশি। তবে তিনি আর্থিক ভাবে তেমন স্বচ্ছল না। স্থানীয় ভাবে এখন সে কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। সন্তানদের ভরণপোষণ তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট লাখোকোটি শুকরিয়া আদায় করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট মা ও ৫ নবজাতকের জন্য সুস্থতা কামনা করেন।