চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধরে কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা, বিচার দাবি

Any Akter
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ পূর্বাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে এক নির্মাণ ঠিকাদারকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে এক ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে। হামলায় ঠিকাদারের একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই পা কেটে ফেলতে হয়।

বৃহস্পতিবার(৯ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. ওয়াসিম (৩৬) ও তার পরিবারের সদস্যরা। আহত ঠিকাদার ওয়াসিম গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ছয়জন গ্রেফতার

অভিযুক্ত এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। তিনি পাশর্^বর্তী গাছা থানার ৩৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ভূক্তভোগি ওয়াসিমের স্ত্রী মোছা. মুন্নী আক্তার ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মো. ওয়াসিম নির্মাণ ঠিকাদারের কাজ করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মোমিনুর রহমান মমিন ও তার সহযোগিরা তার নিকট দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে ওয়াসিমকে আঘাত করে। হামলায় তার ডান পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাধ্য হয়ে ওই পা কেটে ফেলতে হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ৫, দেশীয় অস্ত্রসহ ট্রাক উদ্ধার

মোছা. মুন্নী আক্তার অভিযোগ করেন, এ ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও গাছা থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে তারা গত বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুর আদালতে মামলা করেন। আদালত ঘটনাটি এফআইয়ারভুক্ত করার জন্য থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

মুন্নী আক্তার আরো বলেন, বর্তমানে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে, মামলা করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুম করে দেওয়া হবে। 

তিনি অবিলম্বে এ ঘটনায় মামলা রুজু, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি এ থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এস এম মোমিনুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াসিম একজন মাদক ব্যবসায়ি। তার নামে ১০/১২ মাদক মামলা আছে। তার এ ঘটনা ঘটেছে অন্য এক জনের সাথে। ঘটনার ১০/১২ দিন পর ওয়াসিমের বড়ভাই তার কাছে যায়। পূর্বপরিচিত হিসেবে ওয়াসিককে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে দেখতেও গিয়েছিলেন। ব্যাক্তিগতভাবে তাকে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানালে তাদের অনেকে তাকে সহযোগিতা করেছে। ওয়াসিমের পরিবার মিমাংশার অনুরোধ করলে বিএনপির এক নেতার মধ্যস্থতায় হামলাকারীদের নিকট থেকে দুই লাখ নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওয়াসিমের পরিবারকে দেয়াও হয়।

তিনি আরো বলেন, গত পরশু দিন থেকে শুনছি আমাকে হুকুমের আসামি করা হচ্ছে। ঘটনায় সময় তাদের করা অভিযোগে আমার নাম ছিল না। আমাকে হেয় করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে।