যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবে ইরান
লেবাননে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখলে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানের একটি অবগত সূত্র।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ -কে দেওয়া বক্তব্যে ওই সূত্র জানায়, ইসরায়েল যদি লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
আরও পড়ুন: প্রত্যেক শহীদের রক্তের মূল্য আদায় করা হবে: মোজতবা খামেনি
সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গৃহীত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ রাখার কথা ছিল, যার মধ্যে লেবাননের ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর বিরুদ্ধেও কোনো হামলা না চালানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে অভিযোগ করা হয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: ভেঙে পড়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি
পাল্টা হামলার প্রস্তুতি
ইরান চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা জবাব দিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
সূত্রের ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র যদি তার ‘উন্মত্ত মিত্রকে’ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে, তাহলে ইরান শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সেই কাজ করতে সহায়তা করবে।”
উত্তেজনার পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানে হামলা চালায়। এতে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আকার নেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
আলোচনা চললেও অনিশ্চয়তা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরান আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের বিষয় রয়েছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, এই সংঘাতে তারা ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।
তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আলোচনা মানেই সংঘাতের সমাপ্তি নয়; বরং এটি কূটনৈতিক পর্যায়ে লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা।





