ভারতের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলছে বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে বেশি স্বাধীন অবস্থানে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও আধিপত্য থেকে দেশ এখন বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান রিজওয়ানা হাসানের

ড. আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের আগ্রাসী ও প্রভাব বিস্তারমূলক যে ভূমিকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যেত, সেখান থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে। এখন রাষ্ট্র স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যুক্তিসংগত হওয়া উচিত। বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল ব্যর্থতার দিক তুলে ধরলে তা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। সরকার যদি ১০টি কাজের মধ্যে ৪টি করতে পারে, তাহলে সেগুলোর স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাকি কাজগুলো নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া দরকার।

আরও পড়ুন: গণভোট ও নির্বাচন ঘিরে সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে ইসি

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার করা হয়েছে। বিচার বিভাগে নতুন পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি এবং বাজেট বরাদ্দের পূর্ণ কর্তৃত্ব উচ্চ আদালতের হাতে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যা ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সংস্কার কোনো যাদুর আলো নয় যে সঙ্গে সঙ্গে ফল দেখা যাবে। তবে ইতোমধ্যে গুম সংক্রান্ত তদন্তের জন্য গঠিত কমিশন কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুন মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল দাবি করেন, নতুন মানবাধিকার আইন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত ও শক্তিশালী। এই আইনের আওতায় শিগগিরই মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্কারের ফল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হবে, এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।