বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম ফাঁসি দিবস আজ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৪ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম ফাঁসি দিবস আজ।  ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন ও তার অন্যতম সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। ‘যুগান্তর’ দলের চট্টগ্রাম শাখার প্রধান হিসেবে মাস্টারদা সূর্য সেন ১৯৩০ সালে সংঘটিত ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নেতৃত্ব দেন এবং ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে তার জন্ম। সূর্য কুমার সেনই ছিলেন তার পূর্ণ নাম। শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি ‘মাস্টারদা’ নামে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। তার ডাকনাম ছিল কালু। তাঁর পিতা রাজমণি সেন ও মাতা শশী বালা সেন। পরিবারে দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সূর্য সেন ছিলেন চতুর্থ সন্তান।

আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনে ৫ লাখ আনসার–ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি বিপ্লবী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজ জীবন উৎসর্গ করেন। মাস্টারদা সূর্য সেন আজও ভারত ও বাংলাদেশে সমানভাবে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর বীরত্বগাথা দুই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মাস্টারদার স্মরণে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে। কলকাতা মেট্রোর বাঁশদ্রোণী স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘মাস্টারদা সূর্য সেন মেট্রো স্টেশন’। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাস্টারদা সূর্য সেন হল উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে তার জন্মগ্রামটি বর্তমানে ‘সূর্যসেন পল্লী’ নামে পরিচিত। সেখানে তাঁর পৈতৃক ভিটায় ২০০৩ সালে এক একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মাস্টারদা সূর্য সেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং একটি স্মৃতিস্তম্ভ। এছাড়া রাউজান সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মাস্টারদা সূর্য সেনের একটি প্রতিকৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। ভাস্কর্যের পেছনে রয়েছে মাস্টারদা সূর্য সেন পাঠাগার এবং সংলগ্ন এলাকা ‘সূর্যসেন চত্বর’ নামে পরিচিত। রাউজান-নোয়াপাড়া সড়কে তাঁর নামে একটি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে।

ফাঁসি দিবস উপলক্ষে রাউজান সদরের সূর্যসেন চত্বর ও নোয়াপাড়ার তার পৈতৃক ভিটায় স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।