পে-কমিশনের রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত, ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করার কথা আছে পে-কমিশনের। রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ মূল বেতন সচিবদের জন্য ৭৮ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বাজেট প্রভাব প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বাড়বে। বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ, এবং তাদের সর্বশেষ বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে।
আরও পড়ুন: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি
রিপোর্টে গ্রেড সংখ্যা কমানো বা দর্শনগত পরিবর্তনের কোনো সুপারিশ নেই। তবে দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সর্বোচ্চ ১৪৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ থেকে ২০ হাজার টাকায়, এবং মোট বেতন ভাতা সহ ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা মোট বেতন ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেন।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাবাবদ বরাদ্দ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা, তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এই খাতে খরচ আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের দিন ও আগে সহিংসতার দায় আ.লীগের: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ প্রস্তুত কিনা এবং সরকারের সক্ষমতা রয়েছে কি না—সেটি যাচাই করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সংশোধিত বাজেটে এই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ রেখেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করছে।





