জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্র হবে সংসদ: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংসদকে কেবল প্রাণবন্ত করলেই হবে না, এটিকে কার্যকর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সংসদ।
রবিবার (৮ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ
চিফ হুইপ বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা চালু রয়েছে যে সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত করতে হবে। কিন্তু এখন সময় এসেছে সেই ধারণা বদলানোর। তার মতে, সংসদকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত ও জাতীয় বিষয় নিয়ে মূল বিতর্ক সংসদকেন্দ্রিক হয়।
তিনি বলেন, সংসদ কার্যকর হলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী ১২ তারিখ থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে এবং এটি একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর অধিবেশন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: শেকৃবিতে গুম-খুন ও জুলাই শহীদ–আহত পরিবারের সঙ্গে বৃহত্তর বগুড়া সমিতির ব্যতিক্রমী ইফতার
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে বিরোধী দল সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায়। সরকার সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক হোক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
প্রথম অধিবেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, এবারের অধিবেশন কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হবে। কারণ বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ করেছেন। ফলে নতুন করে তাদের নির্বাচন করতে হবে। প্রথম দিন সংসদ কক্ষে স্পিকারের চেয়ার খালি থাকবে। তখন সংসদ নেতা একজন সিনিয়র সদস্যকে অস্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন এবং তাঁর সভাপতিত্বেই অধিবেশন শুরু হবে। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শেষে সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে অনেক সময় অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বসলে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। বর্তমানে প্রায় ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স রয়েছে, যেগুলো সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব অর্ডিন্যান্স অনুমোদনের বিষয়েও সংসদে আলোচনা হবে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের দল সংগ্রাম করেছে। জনগণের সমর্থনে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দলের ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।
এ সময় তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা করমুক্ত রেখে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের কৃষক, খতিব ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি ভাতা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। সরকারি দল ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে নিয়ে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।





