নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০২ পূর্বাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়—এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকার বিষয়। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে দেশ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে এবং সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমসহ তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে অতীতে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করেছে। ভবিষ্যতে যেন আর এ ধরনের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার কার্যকর ও মর্যাদাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহায় জিয়া পরিবারের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা একটি পবিত্র দায়িত্ব। সামনে আর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে না, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি ও অবদান জাতির চেতনায় অমর করে রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, পূর্ববর্তী সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করেছে। বর্তমান সরকার সেই জঞ্জাল দূর করে মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো সম্মান ও ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনে, সংস্কার বাস্তবায়নে এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না এবং সরকার জনগণের কাছে আরও দায়বদ্ধ হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথাও জানান। তাঁদের মতে, গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে তা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গণ-অভ্যুত্থান থেকে পাওয়া সংস্কারের সুযোগ কাজে লাগাতে গণভোট অত্যন্ত জরুরি। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে দেশ বারবার একই জায়গায় ঘুরপাক খাবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভূমিকার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কৃতজ্ঞ।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধারা আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে সন্দেহের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেই ভুল ধারণা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের সুযোগ ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তিন সংগঠনের নেতারা তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, স্মারক নির্মাণ, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল এবং কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদের সঠিক ব্যবহারে কাজ চলছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে দেশের স্থায়ী কল্যাণে সম্পদ ব্যবহারের পথ তৈরি করতে হবে। সরকার ছাড়াও নাগরিক হিসেবে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।