ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক

অর্থ পাচারে জড়িত শীর্ষ ১০ শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৯ অপরাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশ থেকে যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব ব্যাংককে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে তদন্তে দেশের শীর্ষ ১০ শিল্প গ্রুপ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গভর্নর এসব নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আগে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের পরামর্শকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন গভর্নর। সেখানে তিনি চলমান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, বিগত সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল এবং এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে যেসব বিদেশি আইনি ফার্মের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর চুক্তি রয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে মামলা পরিচালনার মাধ্যমে অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেসব ব্যাংককে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ দেশে ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে বৈঠকে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের চলমান বিভিন্ন সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।