ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বললেন মন্ত্রী
সাম্প্রতিক ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৯ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: পাঁচ মিনিট আগেই সংসদের অধিবেশনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তিনি জানান, স্বল্প সময়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের যানজট বা স্থবিরতা তৈরি হয়নি। কিছু এলাকায় চাপ থাকলেও দেশের অধিকাংশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার বসানো বন্ধ করা, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি। বিশেষ করে গাজীপুর-চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সংসদ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র: ডেপুটি স্পিকার
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসানো যাবে না। নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে আগে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট ভঙ্গ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ওভারস্পিড বা নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে তদারকি, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় সড়ক পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, পুলিশ, বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রা আরও নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।





