সংবিধান ইস্যুতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান বিষয়ে প্রতিকার না পাওয়া এবং তাদের প্রস্তাবকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বুধবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে বিরোধী সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান’ প্রশ্নে একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এ সময় সরকারি দল সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে এ প্রস্তাবে একমত হয়নি বিরোধী দল। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি হলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: ডেপুটি স্পিকার
বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে উঠে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চান। তিনি বলেন, বিষয়টি গণভোট ও জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তারা স্পিকারের মাধ্যমে প্রতিকার প্রত্যাশা করেছিলেন।
এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, উত্থাপিত প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা তার অনুপস্থিতিতে আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদের ইতিহাসে এ ধরনের প্রস্তাব খুবই সীমিত সংখ্যক গৃহীত হয়েছে এবং প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ করে দিতেই এটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: হোটেল-রেস্তোরাঁ লাইসেন্সে প্রতিবন্ধী সুবিধা বাধ্যতামূলক: প্রতিমন্ত্রী
স্পিকার আরও বলেন, যেসব বিষয়ে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন, সেগুলো সাধারণত মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় পড়ে না। তবে বিরোধী দল চাইলে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি এবং এতে জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি বলেন, “এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এজন্য প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।”
ওয়াকআউটের আগে স্পিকার বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরে পরবর্তী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল প্রস্তাবকে চাপা দিতে নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে।
পরবর্তীতে সংসদীয় রীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্পিকার ওয়াকআউটের অধিকার স্বীকার করলে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।





