মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখবে সরকার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৭ অপরাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর নীতি থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে সরকার।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-এর নেতারা ও অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ে। তাই ‘হাই পাওয়ার মানি’ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে উত্তপ্ত করার নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ও অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে সুদের হার বেড়ে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সমাজের সব স্তরে অর্থনীতির সুফল পৌঁছাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার মতে, পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরা দক্ষ হওয়ায় তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে সাশ্রয় ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। ‘আউট অব পকেট’ খরচ কমাতে পারলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত দেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পাশাপাশি স্টার্টআপ, কুটিরশিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলেছে। বিনিয়োগ বাড়াতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।