পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৪১ পূর্বাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হলেও সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা পে-কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—১ জুলাই থেকে আদৌ নবম পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না, আর হলেও কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন: এরদোগানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থসচিবের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, আদৌ পে-স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না।”

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা গত ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারেও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাই আসন্ন বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন চাকরিজীবীরা।

আরও পড়ুন: অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না এলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী অতিরিক্ত আয়ের জন্য খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকার তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেতন সমন্বয় করা হবে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, অতীতের মতো প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। সেই বাজেটেই স্পষ্ট হতে পারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান।