ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) এবং বৃত্তাকার নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ
তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্য অংশটি আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যুক্ত হবে। পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, প্রাণহানি বেড়ে ৯১৮
বৈঠকে জানানো হয়, রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহন ঢাকা শহরে প্রবেশ না করেই গন্তব্যে যেতে পারবে। এতে নগরীর যানবাহনের চাপ ও যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে রাজধানী ঘিরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথ চালুর সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নৌপথ চালু হলে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে এবং নগরবাসী সহজেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নৌপথে যাতায়াত করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, বিদ্যুৎচালিত নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও সময়োপযোগী একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





