জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে ফিরলেন আফসানা বেগম
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেলেন কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের চুক্তিতে পুনরায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আফসানা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি আনন্দিত। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও উচ্ছ্বাস তাকে নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান: মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়
তিনি জানান, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ভাষায়, ব্যক্তিগত রোষের শিকার হয়ে তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল। পাশাপাশি পাঠকসমাজকে কেন্দ্র করে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও থমকে যায়।
আফসানা বেগম বলেন, এখন সেই কাজগুলো আবার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি নতুন কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দায়িত্বকে অর্থবহ করে তুলতে চান।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি, ওয়াকআউট বিরোধী দলের
এর আগে গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। সে সময় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে ঢাকার বাইরে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিচ্ছিলেন।
তার স্থলাভিষিক্ত হন কবি ও প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ (সাখাওয়াত টিপু)।
তৎকালীন সময়ে আফসানা বেগম বলেছিলেন, তাকে কোনো ধরনের কারণ ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও সরকার যেকোনো সময় নিয়োগ বাতিল করতে পারে, তবুও তার দুই বছরের পরিকল্পনার অনেক কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার প্রস্তাব ছিল সচিব ও মন্ত্রী কোটার পরিবর্তে শতভাগ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে বই নির্বাচন করা। তবে সে বিষয়ে তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন আফসানা বেগম।
তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৪। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে প্রতিচ্ছায়া, বেদনার আমরা সন্তান, আমি অথবা আমার ছায়া এবং দিনগত কপটতা। এছাড়া তিনি নাদিন গর্ডিমার, উইলিয়াম ফকনার, হুলিও কোর্তাসার, অ্যালিস মানরো, আইজাক আসিমভ ও ফিদেল কাস্ত্রোর বিভিন্ন রচনা বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
২০১৪ সালে তিনি জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।





