আশুলিয়ায় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ, সড়কে নৌকা, ঘরে হাঁটু থেকে কোমর পানি
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীপুর হাসান কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, অধিকাংশ ঘরের মেঝেতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাশের একটি নির্মাণাধীন হাসপাতালে।
পুরো শ্রীপুর হাসান কলোনি এখন পানির নিচে। পাকা সড়কে চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা। প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার যাতায়াত ও মালামাল সরানোর জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি নৌকা। এসব নৌকায় করেই বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপন
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, "এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন নির্মাণের কাজ চলায় পানি আটকে আছে। বের হওয়ার পথ না থাকায় পুরো এলাকা ডুবে গেছে। কেউ খাটের ওপর আশ্রয় নিয়েছে, কেউ আবার অন্যত্র চলে গেছে।"
রত্না বেগম নামে এক বাসিন্দা বলেন, "পাঁচ-ছয় দিন ধরে বাসার ভেতরে কোমরসমান পানি। চুলা, গ্যাসসহ সবকিছু ডুবে গেছে। টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ঠিকমতো রান্না বা খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর জলাবদ্ধতা হয়, তবে এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ঘরের সব আসবাব নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে খুব কষ্টে আছি। বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়েছি।"
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ নরসিংদী, নিহত ১
আরেক বাসিন্দা রইছ উদ্দিন বলেন, "প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা হয়, তবে এবার পানি অনেক বেশি। ড্রেন সরু হওয়ায় পানি নামতে পারে না। নোংরা পানির মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। ঘরে পানি, রান্না করে খাওয়ারও উপায় নেই। অথচ এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং চলমান ড্রেন নির্মাণকাজের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত পানি অপসারণ, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।





