যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে নবম পে স্কেল: মুখ্য সচিব

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৪ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাবটি সচিব কমিটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।

মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান সমন্বয়ের স্বার্থে এটি জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মালামাল চুরি: সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার

অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন উচ্চ গ্রেডের তুলনায় আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া কাঠামো অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

চলতি বছরের জুলাই থেকে এর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই নবম পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার করার সুপারিশ

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পার হয়েছে। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এখন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নবম পে স্কেলের বাস্তবায়ন কাঠামো, ধাপ ও কার্যকর হওয়ার সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। সংকট মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং আগের সরকারের সময়ে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন তিনি। সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন মুখ্য সচিব।