বর্জ্য দিলেই মিলবে নিত্যপণ্য, বুড়িগঙ্গায় চালু ভাসমান বাজার
বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করা এবং নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। যৌথ উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কর্মসূচি।
শনিবার সকালে রাজধানীর সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আওতায় বুড়িগঙ্গার তীরে পড়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে জমা দিলে এর বিনিময়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রাচীন ঢাকার বিকাশের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক গভীর। একসময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই নদী। তবে অবৈধ দখল ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে: রিজভী
তিনি বলেন, একদিনের কর্মসূচিতে বুড়িগঙ্গার সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নদী রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ উদ্যোগের প্রাথমিক পর্যায়ে যাওয়ার আশা রয়েছে। বর্জ্যকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলার প্রবণতাও কমবে।
তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে টানা তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়। ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, বাড়ি, ছাদ, ড্রেন, এসির পানি কিংবা ডাবের খোসায় যেন দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য
উদ্বোধনী কার্যক্রমে বুড়িগঙ্গার তীরে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে ভাসমান বাজারে জমা দেন স্থানীয়রা। এর বিনিময়ে চাল, ডাল, আটা, তেল, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। একটি লঞ্চকে সাজিয়ে অস্থায়ীভাবে এই ভাসমান বাজার তৈরি করা হয়েছে।
ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দের এ ধরনের ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি এর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরেও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঢাকার চারপাশের নদী নিয়ে পরিকল্পনা
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, বুড়িগঙ্গার পাশাপাশি ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে নৌ-চলাচলের উপযোগী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





