নতুন করে প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩০ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • বাদ পড়া প্রকৃত যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করতে পুনরায় আবেদন গ্রহণের সুযোগ 
  • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক 
  • দেশে ও বিদেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন 
  • বিদেশে ১৫৪ জন যোদ্ধার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি টাকা

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ অংশগ্রহণকারী প্রকৃত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের তালিকায় ভুলত্রুটি কিংবা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে তা সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য দপ্তরের যাচাই শেষে সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভা-সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃত কোনো জুলাইযোদ্ধা বা শহীদ পরিবার যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকাভুক্তির সুযোগ না পান, সে লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। তবে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের সময় অনেকে আহত হয়েছেন, কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে, আবার কেউ আর্থিক অসচ্ছলতা, নথিপত্রের ঘাটতি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য যথাসময়ে জমা দিতে পারেননি। ফলে কোনো প্রকৃত অংশগ্রহণকারী তালিকার বাইরে থেকে গেলে তাঁর স্বীকৃতি ও প্রাপ্য সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের অভিযোগ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ এবং আবেদন পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা আরও সহজ ও জনবান্ধব করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের কাছে চিকিৎসার নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ঘটনার ছবি-ভিডিও কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের আবেদন যথাযথভাবে যাচাই করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল রাখতে আবেদনকারীর পরিচয়, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের প্রমাণ, আহত হওয়ার ঘটনা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য না ধরে, বিধি অনুযায়ী বিকল্প প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ রাখা উচিত। একই সঙ্গে তালিকাভুক্তির বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।

জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রকৃত যোদ্ধাদের তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আহত বা নিহত না হলেও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেকেই তালিকাভুক্তির আবেদন করার সুযোগ পাননি। তাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় তালিকা চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে অযোগ্য কেউ যাতে তালিকাভুক্ত হতে না পারেন এবং কোনো প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কেনাকাটা ও দরপত্র স্থগিত করল স্থানীয় সরকার বিভাগ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জুলাইযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ, শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়নের নীতিমালা, আইন সংশোধন, চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত বা নিহত না হলেও অংশ নেওয়া অনেক প্রকৃত যোদ্ধা তালিকাভুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় পুনরায় আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অযোগ্য কাউকে গেজেটভুক্ত না করা এবং কোনো প্রকৃত যোদ্ধাকে বাদ না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘জুলাইযোদ্ধা’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও মানদণ্ড নির্ধারণ করে তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরী প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকেও সঠিক তালিকা প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আহত বা নিহত না হলেও যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অনেকেই তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ বা তথ্য পাননি।

নতুন করে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, কীভাবে সঠিক ও নির্ভুলভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তালিকা প্রণয়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেশে ও বিদেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে সরকার। বিদেশে ১৫৪ জন যোদ্ধার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া মাসিক ভাতা, এককালীন অনুদান ও সঞ্চয়পত্রসহ মোট ১,০৪৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দুটি পৃথক বড় প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিটির সদস্য আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা আবেদন ও তালিকাভুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই অবগত ছিলেন না। দেশব্যাপী ব্যাপক অনুরোধ আসায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও তালিকাভুক্তির কার্যক্রম উন্মুক্ত করেছে।

তিনি কমিটির সভাপতি ও অন্য সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের শনাক্ত করতে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হতে না পারেন। অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে সংঘটিত অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও সংসদের কাছে জবাবদিহি করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের জানান, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধের নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮৪৩টি শহীদ পরিবার ও ১৪ হাজার ৩৬৮ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের আর্থিক সহায়তা ও মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আহত জুলাইযোদ্ধাদের দেশে-বিদেশে চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও আবাসন কার্যক্রমও চলছে।

বৈঠকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যভান্ডার নিয়মিতকরণের চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান— দুটি ভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে স্বতন্ত্র আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিতে ৭,৭০০ কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আবদুল হান্নান বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা এবং জুলাইযোদ্ধা কারা এবং তাদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে, তা সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন মো. আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী প্রকৃত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হলে ‘জুলাইযোদ্ধা’র একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রকৃত ব্যক্তি বা পরিবার যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির সদস্য রোকেয়া বেগম, যিনি একজন জুলাই শহিদের মা; জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গেজেটভুক্ত শহীদদের পাশাপাশি আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শহীদের তথ্য যাচাই ও তালিকাভুক্তির বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের বর্তমান অবস্থা ও যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে চান তিনি। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং অভিজ্ঞ গবেষক, কিউরেশন টিম ও স্মারক সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। সরকারি কর্মসূচিতে শহীদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৫৪ জন যোদ্ধাকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া ও তুরস্কে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ৩৮৭ কোটি ২২ লাখ ১১ হাজার ৯৩৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া, আহত জুলাইযোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা, শহীদ পরিবারের সঞ্চয়পত্র, জুলাইযোদ্ধাদের এককালীন অনুদান এবং শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বাবদ মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ৩১২ টাকা ব্যয় হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের আবাসন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শহীদ পরিবারের জন্য ৮০৪টি এবং জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পিতামাতার জন্য বাসগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কার্যক্রম, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তি এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিলের বিষয়েও আলোচনা হয়। জামুকার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. ইমরান আহমেদ জানান, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটির ১০৩টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তকরণ, গেজেট নিয়মিতকরণ এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন, আপিল ও মামলা নিষ্পত্তির কাজ এখনও চলমান। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর দাখিল করা দলিলের সত্যতা যাচাই, ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা সাক্ষ্য, বিপুলসংখ্যক মামলা, স্বল্প জনবল, পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজের অভাব এবং আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ জনবলের সংকট জামুকার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট করতে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।