আট শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে তিন জাহাজ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৯ পূর্বাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে সরকারি অনুমোদন নিয়ে আট শতাধিক পর্যটককে সঙ্গে করে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করেছে তিনটি জাহাজ।

জাহাজ তিনটি হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালু হয়। তবে প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা যায়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের পথ খুলে যায়।

আরও পড়ুন: পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজগুলো পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ায় ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীতে ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে সেন্টমার্টিন থেকে বেলা আড়াইটায় ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। আর এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে দ্বীপ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবে।

সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে রাতেও অবস্থান করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশের পাশাপাশি কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার সময় দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।