ঢাকা-সৌদি রুটের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আরোপিত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথের যোগাযোগে। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ও ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকা-সৌদি রুটে সরাসরি এবং ট্রানজিটে চলাচলকারী মোট ১৮০টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৩ হাজার ৮৫ জন যাত্রী। গতকাল শনিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ১০৩টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫১টি, সৌদিয়ার ২১টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ২১টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।
আরও পড়ুন: শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনর্র্নিধারণ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি ফ্লাইটের মধ্যে ১০৩টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসী বাংলাদেশি, ছুটিতে দেশে আসতে চাওয়া কর্মী, ওমরাহযাত্রী এবং বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ। ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। কারও যাত্রা পিছিয়ে যাচ্ছে, আবার কাউকে নতুন করে টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা, অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার খরচ এবং কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে না পারার আশঙ্কায় বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ।
আরও পড়ুন: দেশের ভেতর-বাইরের ষড়যন্ত্রকারীদের একে একে জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ২১টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের। প্রতিষ্ঠানটির ৩০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা থাকায় সরাসরি আকাশপথের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবগামী ট্রানজিট ফ্লাইটও প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে শুধু ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীরাই নন, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেক প্রবাসী কর্মী নির্ধারিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। আবার দেশে ছুটিতে আসার পরিকল্পনা করা কর্মীদেরও নতুন করে ভ্রমণসূচি সাজাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সময়মতো কাজে ফিরতে না পারলে চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সৌদি আরবগামী ফ্লাইট পরিচালনাতেও পরিবর্তন এসেছে। নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা না থাকায় ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আকাশপথে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এয়ারলাইনসগুলোর কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের দ্রুত নতুন সময়সূচি জানানো, টিকিট পুনর্র্নিধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন বা বাতিলের তথ্য যথাসময়ে না পাওয়ায় তাদের বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে গিয়ে অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সমন্বিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা জরুরি। সব মিলিয়ে ঢাকা-সৌদি রুটে ১৮০টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং ২৩ হাজারের বেশি যাত্রীর ভোগান্তি দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের যোগাযোগে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবনির্ভর প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।





