গার্মেন্টসে অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৮ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা ঢুকে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: পোশাক কারখানা চালু রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। যাতে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা যায় এবং গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করা যায়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে। যারা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামানোর উস্কানিদাতা কারা

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত নন। তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবেন। তাঁদের প্রতিনিধিদের নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাঁদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।’

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে পোশাকশ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়, তাঁদের জীবনমান উন্নত হয় এবং দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। বরং রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ সময় পোশাক কারখানার মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টসশিল্পের মালিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে তাঁরা তাঁদের সব কারখানা চালু রাখেন এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখেন। কোনোভাবেই যেন রপ্তানি সংকট তৈরি হয়, এমন কোনো কাজ করা না হয়। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

কারখানা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণে মালিকেরা শঙ্কিত হয়ে হয়তো সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন। তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক এবং আজকের দিনের মধ্যেই এর অবসান হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।