হঠাৎ পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামানোর উস্কানিদাতা কারা
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন আশুলিয়া, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পিছনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইন্ধন পাওয়া গেছে। মিরপুরে বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলামকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর থেকে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উস্কানিদাতা হিসেবে ১১ জন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, পলাতক যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম নিখিল, আত্মগোপনে থাকা যুবলীগ নেতা কাইল্লা তসলিম মিরপুর-১১ এলাকায় উস্কানিদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাইল্লা তসলিম ওরফে তসলিম চৌধুরী অর্থ দিয়ে তাদের সহায়তা করছেন। তিনি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিরপুর এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: পোশাক কারখানা চালু রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় গতকাল রবিবার সকাল থেকে মিরপুরের তিন এলাকাতেই শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও কারখানায় কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষও হয়। সকালে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেয় বিক্ষোভকারীরা। গাজীপুরে আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবিও মাঠে নামে। গাজীপুর আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মিরপুরে আন্দোলনের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ডিবি।
এদিকে, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের (৬ সদস্যবিশিষ্ট) সমন্বয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রবিবার এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আরও পড়ুন: চার দিন বন্ধ থাকবে এলএনজি টার্মিনাল, সারা দেশে কমবে গ্যাসের সরবরাহ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকালে সচিবালয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ বন্ধ করে কাজে ফিরে যেতে আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে, শ্রমমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, এটা তো আমার মনে হয় ভেরি মাচ ক্লিয়ার কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করতেছে যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। নতুন নির্ধারিত নিম্নতম মজুরির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মজুরি বোর্ড ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীনভাবে পারস্পরিক আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবি হচ্ছে— ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ ও ছাঁটাই বন্ধ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, ন্যূনতম মজুরির দাবির বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আশুলিয়া: সাভারের আশুলিয়ায় রবিবার সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আশপাশের কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরে অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। গাজীপুর ষষ্ঠ দিনে সহিংসতা, গোডাউনে আগুন:গাজীপুরে আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে সহিংস রূপ নিয়েছে। সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেডের মূল ফটকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেন। পরে কারখানার কেমিক্যালের গোডাউনেও আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত আশপাশের দোকানপাট ও কারখানার ক্যান্টিনে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর পৌনে দুটা পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছিল না বলে জানা গেছে।
কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের ডিউটি ম্যান আরিফ সিকদার জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করছে। দিনভর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় চন্দ্রা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানা, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী, চালক ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। মিরপুর সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ, ১১ জন গ্রেফতার: রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং এখন সেই বোর্ডের মাধ্যমেই কাজ হবে। তারপরও তারা সড়ক না ছাড়ায় ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, লাঠিচার্জ করা হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি এবং কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, পুলিশের ধারণা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও ফোন নেওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ডিবি মিরপুর বিভাগ জানায়, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকে পুঁজি করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চললেও আগের দিন থেকে তা বেশ সহিংস হয়ে উঠেছে। রবিবারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: এদিকে, রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের নামে সংগঠিত সহিংসতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি উসকানি ও নাশকতায় জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সাধারণ শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সরকারি দায়িত্বশীল মহল থেকেও জানানো হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে জানিয়ে বলা হয়েছে সরকার, মালিক ও শ্রমিক- এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের ছদ্মবেশে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান রবিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন; তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দুরভিসন্ধি ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে বা তাদের অন্তরালে থেকে এই নাশকতা পরিচালনা করছে।
রবিবার মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ করে সহিংসতা শুরু করলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।হঠাৎ পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামানোর উস্কানিদাতা কারা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন আশুলিয়া, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পিছনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইন্ধন পাওয়া গেছে। মিরপুরে বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলামকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর থেকে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উস্কানিদাতা হিসেবে ১১ জন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একটি সূত্র দাবি করেছে, পলাতক যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম নিখিল, আত্মগোপনে থাকা যুবলীগ নেতা কাইল্লা তসলিম মিরপুর-১১ এলাকায় উস্কানিদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাইল্লা তসলিম ওরফে তসলিম চৌধুরী অর্থ দিয়ে তাদের সহায়তা করছেন। তিনি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিরপুর এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় গতকাল রবিবার সকাল থেকে মিরপুরের তিন এলাকাতেই শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও কারখানায় কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষও হয়। সকালে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেয় বিক্ষোভকারীরা। গাজীপুরে আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবিও মাঠে নামে। গাজীপুর আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মিরপুরে আন্দোলনের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ডিবি।
এদিকে, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের (৬ সদস্যবিশিষ্ট) সমন্বয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রবিবার এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকালে সচিবালয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ বন্ধ করে কাজে ফিরে যেতে আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে, শ্রমমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, এটা তো আমার মনে হয় ভেরি মাচ ক্লিয়ার কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করতেছে যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। নতুন নির্ধারিত নিম্নতম মজুরির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মজুরি বোর্ড ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীনভাবে পারস্পরিক আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবি হচ্ছে— ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ ও ছাঁটাই বন্ধ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, ন্যূনতম মজুরির দাবির বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়া:সাভারের আশুলিয়ায় রবিবার সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আশপাশের কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরে অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। গাজীপুর ষষ্ঠ দিনে সহিংসতা, গোডাউনে আগুন:গাজীপুরে আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে সহিংস রূপ নিয়েছে। সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেডের মূল ফটকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেন। পরে কারখানার কেমিক্যালের গোডাউনেও আগুন দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত আশপাশের দোকানপাট ও কারখানার ক্যান্টিনে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর পৌনে দুটা পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছিল না বলে জানা গেছে।
কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের ডিউটি ম্যান আরিফ সিকদার জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করছে। দিনভর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় চন্দ্রা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানা, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী, চালক ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। মিরপুর সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ, ১১ জন গ্রেফতার: রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং এখন সেই বোর্ডের মাধ্যমেই কাজ হবে। তারপরও তারা সড়ক না ছাড়ায় ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, লাঠিচার্জ করা হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি এবং কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, পুলিশের ধারণা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও ফোন নেওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ডিবি মিরপুর বিভাগ জানায়, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকে পুঁজি করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চললেও আগের দিন থেকে তা বেশ সহিংস হয়ে উঠেছে। রবিবারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: এদিকে, রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের নামে সংগঠিত সহিংসতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি উসকানি ও নাশকতায় জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সাধারণ শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সরকারি দায়িত্বশীল মহল থেকেও জানানো হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে জানিয়ে বলা হয়েছে সরকার, মালিক ও শ্রমিক- এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের ছদ্মবেশে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান রবিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে। ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন; তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দুরভিসন্ধি ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে বা তাদের অন্তরালে থেকে এই নাশকতা পরিচালনা করছে।
রবিবার মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ করে সহিংসতা শুরু করলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।





