'সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি হচ্ছে'—আখতার হোসেন
ক্ষমতায় এসে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি ভুলে বিভিন্ন সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সবার আগে বাংলাদেশ হবে না, সবার আগে হবে বিএনপি।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা পুরোনো সেতু এলাকায় জেলা এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: 'আসি আসি বলে আর আসবে না' শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ
আখতার হোসেন বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ১২টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের বসানো হয়েছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগামী জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনেও একজন দলীয় কর্মীকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, এটি কার্যকর হলে দেশে নতুন কাঠামোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান সরকার এ রায় বাস্তবায়নে আগ্রহী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের আয়নাঘর, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ এবং বিভিন্ন নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, এত আত্মত্যাগের পরও নতুন বাংলাদেশে বৈষম্য রয়ে গেছে।
দেশে কর্মসংস্থান সংকটের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের একটি অস্থায়ী পদের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন দেশের কর্মসংস্থানের সংকটেরই প্রতিফলন। দলীয়করণের পরিবর্তে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এনসিপি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার নীলনকশা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরই জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে যুবসমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সভাপতি খাজা আমিরুল বাশারের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, নারীশক্তির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।





