যে কারণে হারুনকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৯ অপরাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে খাবার খাওয়ানো এবং সেই ছবি প্রকাশের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কলের কথোপকথনের প্রতিলিপি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত প্রতিলিপি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনালাপে নিজের বদলি ঠেকানোর অনুরোধ করেছিলেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ। কথোপকথনে হারুন দাবি করেন, আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তার একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবি প্রধানের নির্দেশেই খাবারের ব্যবস্থা এবং ছবি তোলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: ফুটপাতে চাঁদা তোলা নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, নিউমার্কেট রণক্ষেত্র

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুন অর রশীদকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এর আগে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সে সময় তাকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে কয়েকজন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে একই টেবিলে বসে খাবার খেতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বিএনপির রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র রিজভীই হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ছবিটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, আটক শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিবির পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়েছিল, সমন্বয়কদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়। ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন বিভিন্ন ফোনালাপের কথোপকথনকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া, তাদের কাছ থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আদায়ের অভিযোগ এবং পরে খাবারের ছবি প্রকাশ—সব মিলিয়ে হারুন অর রশীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

ছবিটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও অস্বস্তির কারণ হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়েছে। আন্দোলন যখন সরকারবিরোধী বড় সংকটে রূপ নিচ্ছিল, তখন আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের সঙ্গে ডিবিপ্রধানের এমন ছবি সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে আন্দোলনের পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর জুলাই-আগস্টের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে।

সমন্বয়কদের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে খাবার খাওয়ার ঘটনাটি তখনকার সময়ে আলোচিত হলেও, হারুন অর রশীদকে সরানোর নির্দেশ এবং ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার ফোনালাপের প্রতিলিপি উপস্থাপনের পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত এসব অভিযোগ ও কথোপকথনের সত্যতা এবং এর আইনগত তাৎপর্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে।